







আমি হৃদয় (৩০), আর আমার স্ত্রী ইমু (২৭)। আমাদের পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর সম্পর্ক, আর এখন বিবাহিত জীবন।
শুরু থেকেই হিন্দু নারীদের ঐতিহ্যবাহী সাজের প্রতি আমার একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল। বিশেষ করে সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র, স্লিভলেস ব্লাউজ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা আমার খুব ভালো লাগত। তাই সম্পর্কের সময় আমি মাঝে মাঝেই ইমুকে বলতাম, “তোমাকে এই সাজে নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর লাগবে।”
আসলে ইমুর চেহারা ও ব্যক্তিত্ব এমন ছিল যে আমার সবসময় মনে হতো, হিন্দু ঐতিহ্যবাহী সাজে তাকে অসাধারণ মানাবে। কিন্তু সে ছিল খুবই সাধারণ ও সহজ-সরল স্বভাবের মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও সে বেশ সাদামাটা পোশাক পরত, প্রায় সব সময় ফুল স্লিভ জামা পরতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত।
তবুও আমার বিশ্বাস ছিল, যদি সে একবার নিজের স্বাভাবিক গণ্ডির বাইরে এসে এমন সাজে নিজেকে উপস্থাপন করে, তাহলে তাকে আরও বেশি সুন্দর দেখাবে। তাই আমি প্রায়ই তাকে উৎসাহ দিতাম। পরে বুঝতে পেরেছি, তার নিজের মধ্যেও এমন কিছু সাজ পরার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পারিবারিক পরিবেশ, বেড়ে ওঠার ধরন এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে সে কখনো সেই পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে সেই ইচ্ছাটা তার মনের ভেতর কোথাও না কোথাও ছিল, কিন্তু সাহসের অভাবে প্রকাশ পায়নি। আর আমি চেষ্টা করেছি তাকে সেই সাহস ও আত্মবিশ্বাসটা দিতে, যাতে সে নিজের ইচ্ছাগুলোকে গুরুত্ব দিতে পারে এবং নিজের পছন্দমতো নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।
যেহেতু ইমু হলে থাকত, তাই পারিবারিক বাধা বা চাপের বিষয়টি সেখানে তেমন ছিল না। ধীরে ধীরে আমার উৎসাহে সে স্লিভলেস পোশাক পরতে শুরু করে। প্রথমদিকে বিষয়টি তার জন্য নতুন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে আরও স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে।
এরপর একসময় আমি মজা করে তাকে বলতাম, যখন রুমে একা থাকবে তখন সিঁদুর পরে ভিডিও কলে আমাকে দেখাতে। সে মাঝে মাঝে আমার সেই অনুরোধ রাখত। যেদিন প্রথম তাকে সেই সাজে দেখেছিলাম, আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল, এই সাজে তাকে অসাধারণ সুন্দর লাগছে।
তারপর থেকে আমরা যখন দূরে কোথাও ঘুরতে যেতাম, তখন সে মাঝে মাঝে সিঁদুর পরত এবং আমরা সেভাবেই একসঙ্গে সময় কাটাতাম। আসলে আমাদের দুজনের অনেক ইচ্ছা, পছন্দ আর কল্পনার মধ্যে মিল ছিল। তাই এসব বিষয় আমাদের কাছে কখনো অস্বাভাবিক মনে হয়নি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়গুলো আমাদের জীবনের খুব স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠে। এমু প্রায় নিয়মিতই স্লিভলেস পোশাক পরতে শুরু করে, আর একা থাকলে মাঝে মাঝেই সিঁদুর পরে ভিডিও কলে কথা বলত। এভাবেই আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়, আর প্রায় দুই বছর পর আমরা বিয়ে করি।
বিয়ের পর প্রথম চার মাস আমরা পরিবারের সঙ্গেই ছিলাম। এরপর আমার অন্য একটি রাজ্যে চাকরি হয়, আর আমরা সেখানে গিয়ে নতুন বাসা নিই। কাকতালীয়ভাবে আমাদের বাসার আশেপাশের এলাকাটি ছিল মূলত হিন্দু অধ্যুষিত।
এদিকে আমি যেহেতু শুরু থেকেই ইমুকে এই ধরনের সাজে দেখতে পছন্দ করতাম, তাই যখনই সে সেইভাবে সেজে থাকত, আমি তাকে আরও বেশি আদর করতাম, প্রশংসা করতাম এবং ভালোবাসা প্রকাশ করতাম। ইমুও বিষয়টি বুঝতে পারত। সে নিজেও চাইত যেন তাকে সব সময় সুন্দর ও পরিপাটি দেখায়।
নতুন শহরে এসে আমাদের জীবন আরও স্বাধীন হয়ে ওঠে। এখানে কেউ কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তেমন মাথা ঘামাত না। পরিবারের সরাসরি কোনো বাধা বা নজরদারিও ছিল না। ফলে ইমু নিজের পছন্দমতো সাজগোজ করতে আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে শুরু করে।
ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু সাজ তার দৈনন্দিন জীবনেরও একটি অংশ হয়ে যায়। নতুন পরিবেশে, নিজেদের মতো করে গড়ে তোলা জীবনে, সে প্রায় প্রতিদিনই নিজের পছন্দের সেই সাজে নিজেকে উপস্থাপন করত এবং বিষয়টি আমাদের দুজনের কাছেই একেবারে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল।
সমস্যাটা হলো, ইমু এখন বিষয়টাকে এতটাই স্বাভাবিকভাবে নিজের জীবনের অংশ করে ফেলেছে যে আমি ঘুম থেকে উঠলেও তাকে সিঁদুর পরা অবস্থায় দেখি, আবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও একইভাবে দেখি।
অবশ্য আমি এটা পছন্দ করি, আর এটাও সত্য যে এই সাজে তাকে দেখতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু তাই বলে সারাদিন, প্রতিদিন একইভাবে থাকবে—এতটাও আমি ভাবিনি।
আমি লক্ষ্য করেছি, আমার উৎসাহ পাওয়ার পর সে আগের মতো হিজাবও পরে না। এখন বেশিরভাগ সময়ই সে এই সাধারণ সাজেই থাকে। অন্যদিকে সে নিয়মিত নামাজও পড়ে এবং নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে।
আমরা যে এলাকায় থাকি, সেখানে প্রায় সবাই আমাদের হিন্দু বলেই মনে করে। কারণ এমুর এই সাজসজ্জা এবং চলাফেরা দেখে তাদের কাছে সেটাই স্বাভাবিক ধারণা হয়ে গেছে। এমনকি এখন সে পাড়ার বিভিন্ন পূজা-অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করে।
সব মিলিয়ে বিষয়টা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেটা একসময় শুধুমাত্র আমার পছন্দ বা আমাদের দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ একটা ব্যাপার ছিল, সেটা এখন তার দৈনন্দিন পরিচয় ও জীবনযাপনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে।
Keu discussion korte chaile dm koro..