স্রোত - পর্ব #৩
গল্পের সকল ঘটনা চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে কোন মিল থাকলে তা নিতান্তই কাকতালীয়।
তুলি ডানদিকের করিডর ধরে হাঁটা দিল। ওয়াশরুমে ঢুকে ব্যাগটা দরজার হুকে ঝুলিয়ে বড় করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। গাড়ির ভেতর কি একটা বিব্রতকর একটা পরিস্থিতিতে পড়েছে! মাঝে মাঝে ওরা যা করে না! সালোয়ার টা নামিয়ে চুপচাপ বসে জামাটা তুলে নিলো। আকাশী রঙের লেইসের প্যান্টিটা ভিজে জবজবে, সালোয়ারটাও ভিজিয়ে দিয়েছিল প্রায়। ক্লীনশেভ করা যোনীর চারপাশে রসে জড়িয়ে গেছে। এখনও রস বেরোচ্ছে। আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। টিস্যু নিয়ে পরিস্কার করার জন্য যোনীতে লাগাতেই শরীর কেঁপে উঠলো। মন চাইছে জ্বালা মিটিয়ে তবেই বের হবে। কি মনে করে টিস্যুটা ফেলে আঙ্গুল দিয়ে যোনীর ঠোঁটদুটো ফাঁক করে নিল। গড়িয়ে কিছুটা রস বেরিয়ে এল, আঙ্গুলদুটো ভিজে পিচ্ছিল। গোলাপী ঠোঁটদুটো বেশ লালচে ফুলে আছে, কড়ে আঙ্গুলের মাথার মত ছোট ক্লিটোরিস পাঁপড়ির ভাঁজ থেকে উঁকি দিচ্ছে। চোখ বন্ধ করে ক্লিটোরিস টা একটু ছুঁয়ে নিল। গাড়ির কথা গুলো মনের ভেতর তোলপাড় চালাচ্ছে।
হুট করে বাস্তবে ফিরে এল সে। জলদি টিস্যু নিয়ে যতটা পারে সাফ হয়ে নিল। ওদিকে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে বোধহয়। জলদি সব ঠিক করে চটপট ফ্রেশ হয়ে নিল। ওসব ভাবার সময় নেই। দ্রুতপায়ে ক্লাসের দিকে চলল তুলি। ভেজা প্যান্টিটা একটা অস্বস্তি অনুভুতি দিচ্ছে, তার উপর এখন সমানে রস ঝরছে। ক্লাসের সামনে গিয়ে ভেতরে উঁকি দিল, অনু আর প্রিয়তা ক্লাসে ঢুকে পড়েছে, গিয়ে ওদের পাশে বসে পড়ল।
আজ তিনজনেরই ক্লাসে একেবারে মন নেই, যদিও তিনজনের মনে আলাদা চিন্তা। অনু ভাবছে তার স্বপ্নের কথা, তুলি তার ভেজা প্যান্টির অস্বস্তি নিয়ে চুপচাপ পা চেপে বসে ছিল, প্রতিবার নড়াচড়ায় যোনী থেকে আরও রস গড়িয়ে প্যান্টি ভিজিয়ে দিচ্ছিল। আর প্রিয়তা, সে তার মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত। নতুন লেকচারার জাহিদ হোসাইন এখনো পড়ানোর ছন্দ খুঁজে পাননি, তাই স্টূডেন্টরাও মনযোগ দিচ্ছে না। অবশ্য দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম, ভার্সিটির সব মেয়েদের ক্রাশ বলা যায়। লম্বা, মাঝারি গড়ন, লম্বাটে চেহারা আর চওড়া চোয়াল, চোখে রিমলেস চশমা, সব মিলিয়ে ভালোই। কথাবার্তায় একটা কনফিডেন্স আছে, কিন্তু পড়ানোর স্টাইল টা এখনো আসেনি। অনু তার দিকে তাকিয়ে অজান্তেই একটু বেশি সময় চোখ রাখল। "এত হ্যান্ডসাম লোক আবার সিঙ্গেল হয় কিভাবে?", পাশ থেকে অনুর কানে কানে বলল প্রিয়তা। অনুর চোখ পড়ল প্রিয়তার ফোনের স্ক্রিনে। মাত্রই তোলা একটা স্ন্যাপ, ক্লিভেজ বেরিয়ে আছে, বুক যেন পাহাড়ের মত উঁচিয়ে আছে। নিচে ক্যাপশন লিখা, "Here is your appetizer"। অনু চোখ সরিয়ে নিল, বলল, "কে জানে, হয়ত পার্সোনাল লাইফ নিয়ে কথা বলা তার পছন্দ নয়।"
"দেখিস দুইদিন পর কোন স্টুডেন্ট পটিয়ে নিয়েছে।"
অনুর মনটা একটু খারাপ হল। প্রিয়তা কি কোন রিলেশনে আছে? থাকলে অন্তত অনু জানতো। তাহলে কাকে ছবি পাঠাচ্ছে? ওদের মধ্যে কি চলছে? প্রিয়তা কি সেই ছেলের সাথে সেক্স করেছে? নাহ, ও এরকম করবে না, এসব নিয়ে কাউকে কাছেই ঘেঁষতে দেয় না প্রিয়তা। কিন্তু হতেও তো পারে, প্রিয়তাও তো সদ্য যুবতী, ওর শরীর ও আর দশটা মানুযের মতই, তাহলে? নানা প্রশ্নে অনু আবারো অন্যমনস্ক গেল।
"মিঃ অনুপম,...", হঠাৎ একটা ভারী কণ্ঠে বাস্তবে ফিরে এলো অনু।
"ক্যান ইউ প্লিজ এক্সপ্লেইন দ্য কনসেপ্ট অফ নিউরাল নেটওয়ার্ক", লেকচারার জাহিদ বললেন।
"স্যরি স্যার, আই এম হ্যাভিং আ হার্ড টাইম গ্রাস্পিং দিস।" অনু ইতস্তত করে উত্তর দিল।
জাহিদ স্যার হালকা হাসলেন। তার চোখের দৃষ্টিতে একটা অদ্ভুত উষ্ণতা।
"ওহ রিয়েলী? ইটস ইম্পর্টেন্ট দ্যাট ইউ আস্ক কোয়েশ্চেনস ইন সাচ কেইসেস। প্লীজ সীট, আই উইল গো থ্রু দিস টপিক ওয়ান্স মোর, বাট প্লিজ ফোকাস অন দ্য লেকচার" মিঃ জাহিদ আবারো লেকচার শুরু করলেন।
অনু বসে পড়ল। বেশ কষ্ট করেই লেকচারে মনযোগ দিল। খেয়াল করল, জাহিদ স্যারের কথা বলার ভঙ্গিতে একটা মোহ আছে, বেশ গুছিয়ে কথা বলতে পারে। ইঞ্জিনিয়ারিং না পড়লে বেশ ভালো কবি, নয় আবৃত্তিকারক অথবা সংবাদপাঠক হতে পারতো। ক্লাস শেষে এসাইনমেন্ট দিয়ে চলে গেলেন লেকচারার।
সারাদিন তেমন কোন ঘটন অঘটন ছাড়াই কেটে গেল, বিকেল পর্যন্ত টানা ক্লাস করে ক্লান্ত সবাই। ক্লাস থেকে বেরিয়ে প্রিয়তা বলল, "ধুর বাল, আর ভালো লাগে না ক্লাস, বিজনেস শুরু করব।", তুলি কিছু একটা বলতে যাবে, অমনি প্রিয়তার ফোন বেজে উঠল। মুচকি হেসে প্রিয়তা বলল, "তোরা ক্যান্টিনে যা, আমি একটু লাইব্রেরি থেকে আসছি", বলেই সিড়িঁ বেয়ে চারতলায় লাইব্রেরির দিকে হাঁটা দিল।
"ওর আবার লাইব্রেরি যাওয়ার ভূত ধরলো কবে? চলো তুলি, ক্যান্টিনে বসে চা খেয়ে নিই।" অনু বলল।
দুজনে ক্যান্টিনে বসে আলাপে মশগু।।
চারতলায় প্রিয়তা সিড়িঁতে দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছে। দুইতলা থেকে দৌড়ে উঠেছে, লিফট নেওয়া দরকার ছিল, ভাবছে সে। ফোনটা বের করে, কিছুক্ষন আগের পাওয়া মেসেজটা আবার চেক করল।
"চারতলায় আয়"
চটপট টাইপ করল সে, "কোথায় তুই?"
টিং... রিপ্লাই এসেছে, "মেনস টয়লেটে আয়"।
প্রিয়তার ঠোঁটে একটা দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। সে চারপাশটা দেখে নিয়ে পুরুষদের টয়লেটের দিকে এগিয়ে গেল। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই পেছন থেকে একটা শক্ত হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরল.........
ব্যস্ততার কারনে এই সপ্তাহে একটু দেরি হয়ে গেল। আশা করি পরের সপ্তাহ থেকে টাইমলি পাবলিশ করতে পারব।